নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমদ মারুফ আকস্মিকভাবে ছুটিতে নিজ দেশে চলে গেছেন। তাঁর এ সফর ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কবে তিনি ফিরবেন, আদৌ আর বাংলাদেশে ফিরে আসবেন কি না—তা নিয়ে এখনো কোনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আহমদ মারুফ ১১ মে থেকে ছুটিতে রয়েছেন এবং বর্তমানে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন উপহাইকমিশনার মুহাম্মদ আসিফ।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন হাইকমিশনার মারুফ। ফ্লাইটটি দুবাই হয়ে পাকিস্তানে পৌঁছায়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, হাইকমিশনারের এ সফর “দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি” নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে বিবেচিত। তবে ঢাকার কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে, ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার যাওয়া এবং এক বাংলাদেশি নারী সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিতর্কে জড়ানোর কারণেই তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর সৈয়দ আহমদ মারুফ বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে কয়েকটি কৌশলগত পদক্ষেপে ভূমিকা রাখেন তিনি।
তাঁর এ হঠাৎ ছুটি ও অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজনীতিক ও কূটনীতিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এটি কি শুধু আনুষ্ঠানিক সফর, না কি তাঁকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার কোনো পূর্বাভাস?