
ময়মনসিংহের গফরগাঁও আজ ৯ ডিসেম্বর উদযাপন করছে তাদের গৌরবময় হানাদারমুক্ত দিবস। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও তাজা রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে গফরগাঁও সম্পূর্ণ হানাদারমুক্ত হয়েছিল।মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গফরগাঁওয়ের শ্যামল ভূমি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মুক্তিকামী বীর সন্তানেরা জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে ছোট-বড় বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেন।
নয় মাসের রক্তঝরা সংগ্রামের পর ৯ ডিসেম্বর বিজয়ের পতাকা উড়তে থাকে গফরগাঁওয়ের আকাশে। মুক্তিযোদ্ধারা গফরগাঁও শহরে প্রবেশ করলে সর্বস্তরের মানুষ লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন।হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগে ত্রস্ত ছিল গফরগাঁও১৯৭১ সালে পাক বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সহযোগিতায় গফরগাঁওয়ে নেমে আসে বিভীষিকা। নির্বিচারে হত্যা করা হয় অসংখ্য নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশুকে। ১৭ এপ্রিল গফরগাঁও বাজারে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি ও বোমাবর্ষণ করা হয়। এতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল বেপারীসহ বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান।গফরগাঁও লঞ্চঘাটা বধ্যভূমি, মশাখালী রেলস্টেশনের দক্ষিণে শীলা নদীর সেতুর ওপর, গয়েশপুর বাজারের পাশে, নিগুয়ারী মুক্তিযোদ্ধা বাজারের নিকটে হাজারো মুক্তিকামী মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৫ ডিসেম্বরের যুদ্ধ এবং ৯ ডিসেম্বরের বিজয়৫ ডিসেম্বর মশাখালী স্টেশনের দক্ষিণে শীলা নদীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক তীব্র যুদ্ধের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় অর্জন করেন। পাক হানাদাররা পিছু হটে গফরগাঁও সদরে আশ্রয় নিলে ইকবাল-ই-আলম কামালের নেতৃত্বে কামাল কোম্পানি, আফসার বাহিনীর বীরযোদ্ধা বোমা সিরাজ সহ মুক্তিযোদ্ধারা চূড়ান্ত আক্রমণ চালান। একের পর এক প্রতিরোধ ভেঙে ফেলে মুক্তিযোদ্ধারা পুরো গফরগাঁও উপজেলা হানাদারমুক্ত করেন।এর ফলেই ৯ ডিসেম্বর গফরগাঁওয়ে বিজয়ের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
অবহেলিত বধ্যভূমি – সংস্কারের দাবি স্থানীয়দেরঅসংখ্য প্রাণের স্মৃতিবিজড়িত গফরগাঁওয়ের বধ্যভূমিগুলো আজও রয়েছে অরক্ষিত ও অবহেলিত। মুক্তিযুদ্ধে চরম ত্যাগ স্বীকারকারী বীর শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে এসব বধ্যভূমির সংস্কার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে কর্মসূচিগফরগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল আলম জানান, “দিবসটি উপলক্ষে সকালে র্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”*উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা *এন. এম. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, “৯ ডিসেম্বর গফরগাঁও মুক্ত দিবসের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।”
দৈনিক নব জাগরণ/Daily Nobo Jagoron
Email : newsnobojagoron@gmail.com
Nobo Jagoron