
আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ শনিবার (২৫ মে) সকাল ৮টা থেকে আগামী ৩ জুনের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। প্রথম আধা ঘণ্টাতেই রেলের অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে ১ কোটি ১৪ লাখ হিট রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের সব টিকিট সকাল ৯টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সেবা দেওয়া হচ্ছে eticket.railway.gov.bd এবং Shohoz-এর মাধ্যমে। আজকের টিকিট ছিল ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ৭ জুনের চার দিন আগে, অর্থাৎ ঈদযাত্রার শুরুর দিন ৩ জুনের জন্য।
রেল সূত্রে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় আন্তঃনগর ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার ৩১৫টি, যা সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা লাখো যাত্রীর চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে সকাল থেকেই সার্ভারে চাপ পড়ে এবং অনেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাননি।
কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আজকের দিনে সবচেয়ে বেশি হিট হয়েছে অনলাইনে। এই চাপে সার্ভারে কিছুটা ধীরগতিও হয়েছে। আগামী দুই দিনের টিকিটের চাহিদা আরও বেশি হবে বলে ধারণা করছি।”
পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ছাড়া হবে দুপুর ২টায়। এ অংশে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহগামী ট্রেনগুলো অন্তর্ভুক্ত।
এদিকে, আজ যারা টিকিট পাননি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ওয়েবসাইটে ঢুকতে সমস্যা হয়েছে, লগইন করলেও টিকিট বুক করতে গিয়ে সিস্টেম হ্যাং করেছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে এবার কোনো কাউন্টার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। শতভাগ টিকিট অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে, যা ভিড় ও কালোবাজারি রোধে সহায়ক হলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও আসন স্বল্পতার কারণে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
টিকিট বিক্রির সময়সূচি (ঈদুল আজহা ৭ জুন ধরে):
- ২৫ মে: ৩ জুনের টিকিট
- ২৬ মে: ৪ জুনের
- ২৭ মে: ৫ জুনের
- ২৮ মে: ৬ জুনের
- ২৯ মে: ৭ জুনের (ঈদের দিন)
অন্যদিকে ঈদের পরে ফেরার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৩০ মে থেকে। ফেরার তারিখ ৮ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত।