খামেনির পর ইরানের নেতৃত্বে কে?

print news
image 1

 

প্রায় চার দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে বড় প্রশ্ন—ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যেই তেহরানে উত্তরসূরি নির্ধারণের আলোচনা জোরালো হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী খামেনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা ছিলেন। তিনি ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে তার নিহত হওয়ার দাবি করেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Islamic Republic News Agency (ইরনা) এ তথ্য নিশ্চিত করে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ নামে পরিচিত ধর্মীয় পরিষদের হাতে। এই পদে আসীন হতে হলে জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক হওয়া আবশ্যক।

একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম আগে থেকেই নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন খামেনি। তারা হলেন—গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই, আলী আসগর হেজাজি এবং হাসান খোমেনি। মোহসেনি-এজেই বর্তমানে বিচার বিভাগের প্রধান, হেজাজি খামেনির দপ্তরপ্রধান এবং হাসান খোমেনি সংস্কারপন্থি ধারার ধর্মীয় নেতা ও রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। এছাড়া মোজতবা খামেনির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করার পক্ষে খামেনি ছিলেন না বলে জানা গেছে।

হামলার আগে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন বলে জানা যায়। কার্যত তিনি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেহরানের পাস্তুর কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় অবস্থিত।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি ছোট রাজনৈতিক ও সামরিক মহলকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সম্ভাব্য নেতৃত্ব কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে ছিলেন মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও ইয়াহিয়া রহিম সাফাভিসহ আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

তবে শনিবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি, কার্যকর নেতৃত্ব বর্তমানে কার হাতে রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, নেতৃত্বে ক্ষতি হলেও ইরান আত্মরক্ষায় পিছপা হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্রুত বৈঠক ডাকা হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে। তবে চলমান সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *