ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের নামা বখুরা গ্রামে একদল সন্ত্রাসী হাফিজ উদ্দিনের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে গাছ, বাঁশ ও পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পুকুরসহ প্রায় ছয় কাঠা জমি বেদখলের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের জালাল উদ্দিন (পিতা: জিন্নত আলী), বাদল, রফিকুল, শফিকুল, আজিজুল ও জসিম উদ্দিন (সকলের পিতা: গিয়াসউদ্দিন)।
ভুক্তভোগী হাফিজ উদ্দিন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আমার ছেলেরা প্রবাসে থাকায় আমি একাই বাড়িতে বসবাস করি। এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখায়। পরে আমার গাছপালা কেটে নেয়, পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যায় এবং পুকুরসহ ছয় কাঠা জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ ঘটনায় আমি গফরগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্তও করেছে। আমি আইনগতভাবে এর সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই।”
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একটি দরবারের আয়োজন করেন। দরবারে হাফিজ উদ্দিন তার জমিজমা সংক্রান্ত সকল বৈধ কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হন। তবে অভিযোগে অভিযুক্ত জালাল উদ্দিনসহ বিবাদীপক্ষের কেউই দরবারে উপস্থিত হয়নি। দরবারে উপস্থিত বিচারক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হাফিজ উদ্দিনের উপস্থাপিত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সেগুলো সঠিক ও বৈধ বলে গণ্য করেন।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে একাধিকবার থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হলেও বাদী পক্ষ নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকলেও বিবাদীপক্ষ কেউই থানায় উপস্থিত হয়নি।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার তিনজন ব্যক্তি বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে তারা এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাফিজ উদ্দিনের ওপর নির্যাতন করছে, তাদেরও একদিন এলাকা ছাড়তে হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক নব জাগরণ/Daily Nobo Jagoron
Email : newsnobojagoron@gmail.com
Nobo Jagoron