গফরগাঁও উপজেলা টাংগাব ইউনিয়নে বাবা ও বড় বোনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।

print news
image 1

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা পাগলা থানাধীন টাংগাব ইউনিয়নে পাওনা টাকা চাওয়ায় আপন বড় বোনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে টাংগাব গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ রোকেয়া (৪১) বাদী হয়ে পাগলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোঃ ইদ্রিছ আলী (৩৫) জমি কেনার কথা বলে এক বছর আগে তার বড় বোন রোকেয়ার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা ধার নেন। টাকা পরিশোধের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ইদ্রিছ টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে তালবাহানা করে আসছিলেন।

ঘটনার দিন গত শনিবার সকাল আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটের দিকে রোকেয়া তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ছোট ভাই ইদ্রিছ ও তার স্ত্রী সীমা আক্তার (২৫) ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা দা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে রোকেয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় রোকেয়ার হাত, পা, পিঠ ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর নীলাফুলা জখম হয়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

ভুক্তভোগী রোকেয়া জানান,”নিজের কষ্টের জমানো টাকা ধার দিয়ে এখন আমিই অপরাধী হয়ে গেছি। টাকা চাইলে তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

স্থানীয়রা আহত রোকেয়াকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এলাকাবাসীর মতে, ইদ্রিছ ও তার স্ত্রী এলাকায় উদ্ধত স্বভাবের হিসেবে পরিচিত এবং তারা সামাজিক কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না।

পাগলা থানা পুলিশ জানায়, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

থানায় অভিযোগ দেওয়ার কারণে ১২ এপ্রিল সকাল ৮ ঘটিকার দিকে ইদ্রিস, তার স্ত্রী সীমা আক্তার ও ভাই ইউনুস তাদের বাবা সাহাবউদ্দিন ও বোন রোকেয়াকে জোরপূর্বক ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখে ও মারধর করে, পরবর্তীতে ৯৯৯ এ কল দিয়ে সাহায্য চাইলে পাগলা থানা পুলিশ ও বড় মেয়ে জামাতা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে, এবং শারিরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসার জন্য গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পাঠান, ভুক্তভোগী রোকেয়া এখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *