গাবতলীর কামারচট্ট গ্রামে ভ্যানচালকের বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট, থানায় অভিযোগ

print news

এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

img

বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের কামারচট্ট গ্রামে জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে ভ্যানচালক মোঃ নজরুল পাইকারের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নজরুল পাইকার (৪৩), পিতা- সৈয়দ আলী, (এনআইডি নং- ৭৭৫৬৮৪৯২২৫), গাবতলী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাদী মোঃ সানিক (২০),ও মোঃ সাব্বির(২২) উভয়ের পিতা- মোঃ সানোয়ার, মোঃ আরমান (২৫), পিতা- মোঃ আনোয়ার, মোঃ সানোয়ার (৪৮), পিতা- মৃত বাচ্চা পাইকার, মোছাঃ জোসনা (৪৫), স্বামী- মোঃ আনোয়ার এবং মোছাঃ পামুলী (৪২), স্বামী- মোঃ সানোয়ার দীর্ঘদিন ধরে নজরুল পাইকারের সঙ্গে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ দুপুর ১২টার দিকে বিবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে নজরুল পাইকারের বাড়িতে গিয়ে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তিনি বাধা দিলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বসতঘরে প্রবেশ করে টিনের বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ১০,০০০ টাকা সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এরপর তারা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে চালের ড্রামের ভেতর রাখা বস্তা থেকে নগদ ৪০,000 টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রতিরোধ করতে চাইলে বিবাদীরা তাকে খুন-জখমসহ বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে তার স্ত্রী মোছাঃ মুঞ্জিলা (৩০), প্রতিবেশী মোছাঃ জমেলা (৬০)সহ স্থানীয় অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগে নজরুল পাইকার আরও উল্লেখ করেন, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তার জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। পূর্বেও একাধিকবার ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদের ঘটনা ঘটলেও গত ২৬ আগস্টের হামলাটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ কারণে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় গ্রামবাসীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নজরুল পাইকার পেশায় একজন ভ্যানচালক। জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি বসতবাড়ির সামান্য জমিই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। আর এই জমিকেই কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ একাধিকবার তাকে হয়রানি ও হুমকি প্রদান করে আসছে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, অভিযোগটি হাতে পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের ডাকা হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *