ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অভিবাসন নীতি নিয়ে যুগান্তকারী প্রেজেন্টেশন দিলেন গবেষক রাইসুল ইসলাম মুরাদ

print news

কামরুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা ডিভিশন

image 15

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত “ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ২০২৫”-এ বিশ্বের অভিবাসন নীতি, বৈশ্বিক শ্রমবাজার এবং বাংলাদেশের বর্তমান অভিবাসন বাস্তবতা নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণা-নির্ভর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে দেশ-বিদেশের গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আন্তর্জাতিক গবেষক এবং এন গ্লোবলের সিইও জনাব রাইসুল ইসলাম মুরাদ।

তার উপস্থাপনায় মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অভিবাসনের প্রবণতা, দক্ষতার ঘাটতি, শিক্ষা-ভিত্তিক অভিবাসন, ভিসা নীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন তিনি।

গবেষণায় উঠে আসে, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দক্ষ অভিবাসীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে—বিশেষ করে নার্সিং, আইটি, কেয়ারগিভিং, কৃষি-প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ, মেরিটাইম, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিদেশি ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মানে স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিশ্চিত করা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি তার প্রেজেন্টেশনে বৈশ্বিক অভিবাসন নীতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন—যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার EPS মডেল, বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক রিক্রুটমেন্ট সিস্টেম, জাপানের TITP, ইউরোপের ব্লু-কার্ড পলিসি এবং কানাডার এক্সপ্রেস এন্ট্রি স্কিল-ভিত্তিক ইমিগ্রেশন পদ্ধতির সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতির পার্থক্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

জনাব মুরাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, ভাষা প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন এবং নীতিমালার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে পারে—তবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে দেশের অভিবাসন খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে।

সম্মেলনে উপস্থিত নীতিনির্ধারক, গবেষক, প্রবাসী শ্রম বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা তার উপস্থাপনাকে বাংলাদেশের অভিবাসন নীতি সংস্কারের ক্ষেত্রে “একটি যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি” বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ গবেষণা, ডেটাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং প্রবাসী কল্যাণে প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেন—এ গবেষণা ও সুপারিশগুলো বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করবে এবং দক্ষ কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও প্রবাসী আয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *