এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

তৃণমূল রাজনীতি থেকে সমাজসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বগুড়ার এরুলিয়া অঞ্চলের মানুষদের আশা–ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন মোঃ রবিউল ইসলাম আপেল। সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৪নং এরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদল; যুব বিষয়ক সম্পাদক, ৪নং এরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি; সাংগঠনিক সম্পাদক, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি—দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সর্বদাই নীতির রাজনীতি, মানুষের কল্যাণ আর দলীয় আদর্শকে জীবনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরে রেখেছেন। তৃণমূল বিএনপির এই পরিশ্রমী, নিবেদিতপ্রাণ নেতা রাজনীতি ও সমাজসেবাকে একই সুতোয় বেঁধে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন মানুষের অন্তরে।
দলকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে গিয়ে জীবনে বহু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন আপেল। কখনো মিথ্যা মামলার শিকার, কখনো বা ষড়যন্ত্র করে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে ফেলেছে স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা। এমনকি দলের নামধারী কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির কারণে নানাবিধ বাধা এসেছে পথচলায়। তবুও তিনি কখনো ভেঙে পড়েননি, দমে যাননি। বরং প্রতিটি বাধাকে শক্তিতে রূপান্তর করে আরও দৃঢ় হয়েছেন দল ও মানুষের প্রতি অনুগত দায়িত্ববোধে।
বর্তমানে দূর প্রবাসে থাকলেও দলের সংকটময় সময়ে তিনি বরাবরের মতোই সরব ও সক্রিয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে নতুন পরিবর্তনের পথে, তখনই সামনে এগিয়ে আসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রার্থী ঘোষণায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, তার অন্যতম নীরব প্রেরণা এই তরুণ নেতা মোঃ রবিউল ইসলাম আপেল।
দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় যখন গোটা দলের ভিতর ব্যথার স্রোত বইছে, তখন প্রিয় নেত্রীর রোগমুক্তি কামনায় দোয়ার আয়োজন, তারেক রহমানের পোস্টার লাগানো, তৃণমূল ছেলেদের মাঠে নামানো—সবই করেছেন নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে। ইউনিয়ন বিএনপির বহু নেতাকর্মী বলছেন, “যে দায়িত্বগুলো ইউনিয়ন বিএনপির করার কথা, সেগুলোই করছে আপেল ভাই। তৃণমূলের প্রতি তার ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, হৃদয় থেকে উঠে আসা।”
তার সামাজিক কর্মকাণ্ডও সমানভাবে প্রশংসিত। তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বর্খতিয়ার স্পোর্টিং ক্লাব অ্যান্ড ব্লাড ডোনার অ্যাসোসিয়েশন, এরুলিয়া বগুড়া—একটি মানবিক সংগঠন, যা বহু মানুষের জীবনমান ছুঁয়ে গেছে। প্রতি বছর শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ প্রদান, গরিব রোগীদের বিনামূল্যে রক্তদান—সবই এই সংগঠনের মাধ্যমে হয়ে থাকে তার নেতৃত্বে। রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি সমাজসেবার এই দৃষ্টান্ত তাকে আরও মানুষের মাঝে গ্রহণযোগ্য ও সম্মানিত করে তুলেছে।
একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মী বলেন, “দলকে ভালোবাসতে এসে আপেল ভাই হয়েছেন নিঃস্ব, কিন্তু হৃদয়ের শক্তি দিয়ে তিনি আজও দলের জন্য কাজ করছেন। প্রবাসেও থেকেও নির্দেশনা দেন, অর্থ সহায়তা দেন, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরিতে প্রতিনিয়ত কাজ করেন।”
রাজনীতি, সততা, সাহস, মানবসেবা—সবকিছুকে একত্র করে তিনি আজ তৃণমূলের অনুকরণীয় উদীয়মান নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এমন নিবেদিতপ্রাণ নেতারাই আগামী দিনের বিএনপির শক্ত ভিত্তি, এমনটাই মনে করেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।