নারীর মর্যাদা রক্ষার ” অঙ্গীকার যাত্রার সমাপনী সমাবেশ- উপস্থিত অভয়ার মা ও বাবা ।

print news

রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস ,কলকাতা , পশ্চিমবঙ্গ

image 26

আজ ১৬ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার, ঠিক দুপুর ১ টায়, কলেজ স্কোয়ার বিদ্যাসাগর মূর্তির পাদদেশে, কলকাতা জেলা অভ্যর্থনা কমিটির আহবানে- নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার দাবীতে , জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখার- যে অঙ্গীকার যাত্রা শুরু হয়েছিল ৯ ডিসেম্বর কোচবিহার ঝাড়গ্রাম পুরুলিয়া এবং কাকদ্বীপ থেকে কলকাতা , আজ তার সমাপনী সমাবেশ , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রতিবাদ সভা।

এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়, প্রতিবাদী গন সংগীতের মধ্য দিয়ে, এরপর একে একে উপস্থিত অতিথিদের মঞ্চে ডেকে নেন এবং মঞ্চে অভয়ার মা-বাবাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্বর্ধনা জানান। সভা শুরুর আগে বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন । বিভিন্ন স্কুল থেকে কয়েকশো ছাত্র-ছাত্রী এবং প্রতিবাদী অভিভাবকেরা উপস্থিত হন। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ডক্টরেরাও এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তাহার সাথে আজ একটি বিশেষ দিন এই ১৬ই ডিসেম্বর, মহীয়সী নারী নারী রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যু দিবস এবং ১৬ই ডিসেম্বর দিল্লি নির্যাতিতা তরুণী নির্ভয়া দিবস । নারী ও পুরুষদের সম্মিলিত এই সমাবেশ, সারা রাজ্যব্যাপী, প্রতিবাদী সমাবেশ।

উপস্থিত ছিলেন সভাপতি অধ্যাপিকা মৈত্রী বর্ধন রায় প্রাক্তন অধ্যক্ষ, সহ-সভাপতি মন্ডলীর আইনজীবী দেবযানী সেনগুপ্ত, সম্পাদক ডা: বিপ্লব চন্দ্র, ডা: গোপাল চন্দ্র সিনহা, অধ্যাপক চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, উপদেষ্টা মন্ডলী পার্থ সারথী সেনগুপ্ত বিশিষ্ট আইনজীবী, ডাক্তার অরুনাভ সেনগুপ্ত বিশিষ্ট চিকিৎসক, ডাক্তার বিনায়ক সেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী, যুগ্ম সম্পাদিকা অধ্যাপিকা সোমা রায় , অনন্যা নাইয়া সমাজকর্মী, কার্যকরী কমিটির ডাক্তার গার্গী দাস বক্সী, গৌতম আচার্য আইনজীবী, নিলা রাম নিশান সংস্কৃতিক সংগঠন, বৈশাখী চক্রবর্তী ভ্যাকেলটি এনআইটি দুর্গাপুর, ঝুম্পা রায় প্রধান শিক্ষিকা, সম্পাদক , বরানগর নারী শিশু অধিকার রক্ষা কমিটি। সহেলি কোলে কলেজ স্ট্রিট আলোর দিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মেঘ বরণ মাইতি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সহ-সভাপতি মধ্য কলকাতা গোষ্ঠ পাল মেমোরিয়াল স্পোটিং ক্লাব, মহুয়া রায় নারী নিগ্রহ বিরোধী নাগরিক কমিটি কলকাতা, অনামিকা দাস শখেরবাজার বিপ্লবী তিলোত্তমা, তনুশ্রী জানা জোড়াসাঁকো আলোর পথযাত্রী, পরিচালক শতরূপা সান্যাল সহ অন্যান্যরা।

আজকের অঙ্গীকার সমাপনী অনুষ্ঠানে যেমন বিভিন্ন জায়গার স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীরা এসেছিলেন অভিভাবকরা এসেছিলেন তেমনি বিভিন্ন সংগঠন পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এই অঙ্গীকার সমাপনী অনুষ্ঠানে এবং প্রতিবাদে, যেখানে নারীদের সুরক্ষা নাই, আরজি করে যেভাবে ঘটে গেল একটি ডাক্তারের মৃত্যুর ঘটনা, আজও যার বিচার অধরায়, শুধু তাই নয়, প্রকৃত দোষীদের বিচার না হওয়ায় আজ পর্যন্ত প্রায় দুশোর বেশি শিশু ও নারীরা ধর্ষিত হয়েছেন এবং হচ্ছে। সরকার নারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিতে পারেননি, শুধু তাই নয় তাহারা দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন, পদে পদে নারীরা লাঞ্ছিত হচ্ছে, কলেজে কলেজে চলছে ধর্ষণ। চলছে একের পর এক প্রমাণ লোপাটের পালা, তাই আজকের দিনটিতে নারীর মর্যাদা রক্ষার জন্য নারীদের সুরক্ষার জন্য আমরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছি এবং সারা দেশের মানুষ এই অঙ্গীকার যাত্রায় সামিল হয়েছেন, আমাদের পাশে রয়েছেন, শুধু তাই নয় আমরা গর্বিত মনে করছি আমাদের পাশে অবহেল বাবা-মা আজ উপস্থিত থাকার জন্য, তার মেয়ের সুবিচার চাওয়ার জন্য, আমরা গর্বিত আজকের এই প্রতিবাদী সমাবেশে বাড়ির অভিভাবকদের উপস্থিত থাকার জন্য, কারণ তাহারাও বুঝতে পেরেছেন কারো না কারো বাড়িতে ছোট ছোট মেয়ে রয়েছে তারা ওই স্কুল কলেজে যায়, তাদেরও দিনের ও রাতের ঘুম চলে যায়, তাদের বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ছেড়ে যতক্ষণ না বাড়ি ফিরে আসে, তাই আমাদের একটাই দাবি এবং এই মঞ্চ থেকে আমাদের আরো সঙ্গবদ্ধ হতে হবে, দের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হবে, নারীদের সুরক্ষা রক্ষার জন্য, এবং দোষীদের শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এইভাবে একত্রিত হয়ে লড়বো। মাতৃ জাতি সম্মান যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি এটা আমাদের কাছে লজ্জা। তাই ৩০০০কিলো মিটার পথ অতিক্রম করে অঙ্গীকার যাত্রাকে সফল করার জন্য আমরা সবার কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আজ এই অঙ্গীকার যাত্রায় স্বাবলম্বী মানুষেরাই হাঁটেন নি, অত্যাচারিত, নিপীড়িত , ধর্ষিত মেয়ের বাবা-মায়েরাও হেটেছেন এমনকি প্রতিবন্ধী মানুষেরাও এই অঙ্গীকার যাত্রায় সামিল হয়েছেন।

আজ মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভয়ার বাবা-মা কয়েকটি কথা সবার উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন, আমার মেয়েকে হয়তো পাবো না ঠিক, কিন্তু আজকের এই সমাবেশে আমরা এত মেয়ে ছেলে কে দেখতে পেয়ে খুশি, এবং তার বাবা মায়েদেরকে, আমাদের সাহস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে, জানবো আমার মেয়ে সবার মাঝে রয়েছে, আমরা আজও মেয়ের সুবিচারের আশায় রয়েছি, আর আপনারা যেভাবে আমার মেয়েকে সম্মান দিচ্ছেন, আমার মেয়ের নিষ্ঠুর মৃত্যু যার বিচার অধরায়, সেই দোষীদের শাস্তি দাবি নিয়ে আপনারা যেভাবে সঙ্গবদ্ধ হয়েছেন আমরা আপনাদেরকে কুর্নিশ জানাই, ১৯ জানাই এই ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের বাবা-মাকে, কারণ তাহারাও বুঝতে পেরেছে একদিন তার ছোট ছোট ছেলে মেয়েরাও পড়াশোনা শিখে আমার মেয়ের মত কাজে বেরোবে, আমরাও একদিন এটাই ভেবেছিলাম, মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে বড় করে প্রতিষ্ঠা করে, ভালো কাজ পাবে, কিন্তু পেয়ে ও আমার মেয়ের হসপিটাল থেকে বাড়ি ফেরা হলো না, এমনকি আমার মেয়ের সঠিক তদন্তও হলো না, আজ দেড় বছর যাবত কোর্ট এর দ্বারস্থ, সঠিক বিচারের আশায়, আর যতদিন না আমার মেয়ের সঠিক বিচার পাবো, আমরা কারো কাছে মাথা নত করব না, আজকের মঞ্চ থেকে সবার উদ্দেশ্যে বলি, যদি সকলে একত্রিতভাবে এই নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠি আমাদের জয় একদিন হবেই, বোঝার চেষ্টা করলেও সরকার ধামাচাপা দিয়ে রাখতে পারবে না, সাধারণ মানুষ সঠিক বিচার পাবে, তাই সঙ্গবদ্ধভাবে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে, এবং একের পর এক দুর্নীতি চক্রকে শেষ করে ফেলতে হবে। আমরা যদি ঠিক থাকি প্রশাসনো কিছু করতে পারবে না। ‌ তাই এই মনজো থেকে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *