নিজস্ব প্রতিবেদক ||

মিথ্যাচার ও অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মনিমালা রায়-এর পরিবারকে নিঃস্ব করে দেওয়ার হুমকি এবং ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ, ৩ অক্টোবর সকালে ওই গোষ্ঠী ফের হামলা চালালে পাড়ার লোকজনের তীব্র প্রতিরোধে তা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অবশেষে ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছে।
সূত্রমতে, এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়েকে ঘিরে গুজব ছড়ানোর প্রতিবাদ থেকে। প্রতিবাদকারী মনিমালা রায় তখন গুজব ছড়ানো সেই মেয়ের বাবার কাছে ঘটনাটি তুলে ধরে মীমাংসার চেষ্টা করলে, তখনই উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি তাদের উপর মারমুখী হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
দুই দফা হামলা ও উসকানি,
প্রথম ঘটনার কিছুদিন পর সেই গোষ্ঠীর একজন সদস্য, মিহির রায়ের ছেলে বিপুল রায়, যিনি যশোরে প্রাণ কোম্পানিতে কর্মরত, তিনি বাড়িতে এসে সবাইকে আবারও উসকে দেন। অভিযোগ উঠেছে, বিপুল রায়-এর উস্কানিতে মনিমালা রায়ের পরিবারের উপর দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণ চালানো হয়। সেবারও পাড়ার সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সাময়িক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
আজকের তাণ্ডব ও প্রতিরোধ,
আজ সকালে অভিযুক্ত গোষ্ঠীর সদস্যরা দলবেঁধে তৃতীয়বারের মতো মনিমালা রায়ের বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাড়িঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া এবং আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া। হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে দেশীও অস্ত্র ছিলো এবং তারা বাড়ির দিকে ইটও নিক্ষেপ করে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পাড়ার সকলে একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে কয়েকজনকে আঘাত করে। এ সময়েই মনিমালা রায়ের ছেলে ও অন্যান্যরা একজোট হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
অভিযুক্ত উগ্রগোষ্ঠীর সদস্যরা হলেন: মিহির রায় ওরফে (ঝোড়ো) ও তার দুই ছেলে পলাশ রায় ও বিপুল রায়, সুশান্ত রায় ওরফে (টুপা) ও তার দুই ছেলে সুজল রায় ও সুজন রায়, এবং প্রশান্ত রায় ও চন্দন রায়।
সংবাদ লেখা পর্যন্ত, পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে নিয়ে স্থানীয় থানায় রওনা হওয়া হয়েছে এবং একটি সাধারণ লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তাদের আশঙ্কা, গোষ্ঠীটি তাদের নিঃস্ব করে দেওয়ার হুমকি বাস্তবে রূপ দিতে পারে।
উক্ত ঘটনা সম্পর্কে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি আমাদেরকে অভহিত করেন, মনিরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। উক্ত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষ প্রকৃত দোষীদের যথাযোগ্য বিচার করা হবে।