
দীর্ঘ কারাবাস, প্রহসনের বিচারে মৃত্যুদণ্ড এবং মাথার ওপর ঝুলতে থাকা ফাঁসির দড়ি— এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই সময় পার করেছেন তিন রাজনৈতিক নেতা। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বদলে যায় দৃশ্যপট। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার রায়ে নতুন বৈধতা পান তারা। বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেফতার হয়ে ২০০৭ সাল থেকে টানা কারাবন্দি ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। দীর্ঘ ১৮ বছর কারাগারের অন্ধকারে কাটানোর পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান তিনি। গত বছর ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে নিজ জেলা নেত্রকোনায় ফেরেন। মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটে বিজয়ী হন তিনি।
একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুও দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পান। জন্মস্থান টাঙ্গাইলে ফিরে গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে নির্বাচন করেন তিনি। ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে প্রায় দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন পিন্টু।
অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ কারাবন্দি ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পর গ্রেফতার হন তিনি। গত বছর ২৮ মে কারামুক্তির পর রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয় পান। প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
রাজনীতির উত্থান-পতনের এই নাটকীয় অধ্যায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি— এই রূপান্তর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।