
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত এই শোক পালন করা হবে। শোকের প্রথম দিন অর্থাৎ বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, "আমরা আশা করেছিলাম তিনি সুস্থ হয়ে ফিরবেন। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি— আমাদের অভিভাবক, গণতন্ত্রের মা আজ ভোর ৬টায় আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।" বিএনপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকবার্তা প্রকাশ করে খবরটি জানানো হয়।
শয্যাপাশে ছিলেন স্বজনেরা বেগম জিয়ার শেষ সময়ে হাসপাতালের শয্যাপাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। স্বজনদের মধ্যে ভাই শামীম এসকান্দার ও বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁর শেষ মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। লিভার সিরোসিস ছাড়াও তাঁর আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের গুরুতর সমস্যা ছিল। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে দীর্ঘদিন তাঁর চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত জীবনের লড়াইয়ে হার মানলেন তিনি।
দৈনিক নব জাগরণ/Daily Nobo Jagoron
Email : newsnobojagoron@gmail.com
Nobo Jagoron