
ময়মনসিংহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ জুন) সন্ধ্যা ও রাতে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের মধ্যে রয়েছে নারী, শিশু ও অটোরিকশার চালক।
রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কের ফুলপুর পৌরসভার কুরিয়ারব্রিজ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রা অটোরিকশার সঙ্গে ঢাকাগামী শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটি রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ছয়জন যাত্রী নিহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা মিলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হাদি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি, তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের তারাকান্দা উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় হিমালয় ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজির এক নারী যাত্রী ও এক শিশু নিহত হয়। গুরুতর আহত সিএনজি চালক মোহাম্মদ আলম (৩৮)– যিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের শুইলাম বুধবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা—কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৮টার দিকে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে এক নারীর ও শিশুর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারাকান্দা থানার ওসি মো. টিপু সুলতান বলেন, নিহতদের মরদেহ থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে, এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই দুই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একদিনে প্রাণ হারালেন নয়জন, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।