
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে পথশিশুদের জন্য গড়ে ওঠা অনন্য শিক্ষা উদ্যোগ ‘স্বপ্নবুনন পাঠশালা’ এবার জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স পাঠশালাটি পরিদর্শন করেন এবং শিশুদের হাতে তুলে দেন শিক্ষা উপকরণ ও নতুন স্কুল ব্যাগ।
পরিদর্শনকালে ইউএনও’র সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হোরায়রা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন, উপজেলা আইসিটি অফিসার হাবিবুল্লাহ এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু তালহা।
২০১৯ সালে মাত্র কিছু তরুণের স্বেচ্ছাসেবী প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই পথশিশুদের স্কুল। রেললাইনের পাশে ত্রিপল টাঙিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন পথশিশু এখানে অক্ষরজ্ঞান ও জীবনের প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করছে।
তবে একটি স্থায়ী ছাউনি বা ঘরের অভাবে বৃষ্টি এলেই পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। এ সমস্যা নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসনের নজর পড়ে এই উদ্যোগের দিকে।
পাঠশালার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উজ্জ্বল আহমেদ বিজয় বলেন,
“শুরুতে ছিল শুধু ইচ্ছা আর ভালোবাসা। এই শিশুরা সুযোগ পেলে অনেক দূর যেতে পারে। বৃষ্টির সময় ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়— এটা আমাদের সবচেয়ে বড় কষ্ট। ইউএনও স্যারদের আগমন ও সহযোগিতা আমাদের নতুন অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”
শিক্ষা উপকরণ পেয়ে আনন্দে ভরপুর হয়ে ওঠে শিশুরা। পাঠশালার শিক্ষার্থী রোহান মিয়া ও মুন জাহান জানায়,
“বৃষ্টির কারণে পড়া বন্ধ হলে মন খারাপ হয়। আমরা চাই, আমাদের একটা স্কুলঘর হোক যাতে প্রতিদিন পড়তে পারি।”
ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স বলেন,
“এই তরুণদের মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষা সবার অধিকার। এই অবহেলিত শিশুদের জন্য তারা যে কাজ করছে, তা সমাজের জন্য অনুকরণীয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু তালহা বলেন,
“এই শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ। শিক্ষা উপকরণ দিয়ে শুধু সহায়তাই নয়, রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে— সেই বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাঠশালার জন্য স্থায়ী অবকাঠামো গড়তে আমরা প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”
দৈনিক নব জাগরণ/Daily Nobo Jagoron
Email : newsnobojagoron@gmail.com
Nobo Jagoron