শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত, ১২ তম শারদীয়া ফুলদোল উৎসব ।

print news

রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ

image 4

আজ ৩রা মার্চ মঙ্গলবার, শারদীয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত, কলকাতা লাইট হাউস ফর দ্য ব্লাইন্ড স্কুল গ্রাউন্ডে, শারদীয়ার প্রতিষ্ঠাতা সৌমন কুমার সাহার উদ্যোগে, ২রা মার্চ সোমবার, ঠিক বিকেল চারটায়, দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে , ১২ তম শারদীয়া ফুলদোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়,
প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গীতে ও নাচে মুখর হয়ে উঠে এই অনুষ্ঠান।

এই অনুষ্ঠানের মূল অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লাইট হাউস ফর দ্য ব্লাইন্ড এর প্রধান শিক্ষক শ্রী অমিও সৎপতি মহাশয় এবং শারদীয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি সৌমন কুমার সাহা সহ শারদীয়া পরিবার।

বসন্ত উৎসব মানেই নতুন রং আর নতুন আনন্দ, কিন্তু শারদীয় ফুলদোল উৎসব একটু আলাদা মাত্রা এনে দেয় প্রতিবন্ধী দৃষ্টিহীন শিশুদের জন্য।
রঙ ও আবীরে নয় , কোন কেমিক্যালে রঙে নয়, স্কুলের ৭০ থেকে ৮০ জন দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের নিয়ে, বিভিন্ন রং এর ফুলে গন্ধে ও মালায় মেতে উঠেছিল এই ফুল্ল উৎসব ও খেলা। ‌ মনে হচ্ছিল যেনো উপর থেকে ফুলের বৃষ্টি ঝরছে। সকল প্রতিবন্ধী শিশুরা খেলায় আত্মহারা, মেতে উঠেছে একে অপরকে ফুল দিয়ে বসন্তের উৎসবে নিজেদের কাছে করে নেওয়া। সকলের মুখে একটা উজ্জ্বল হাসি, মনে হলো এই দিনটির জন্যই অপেক্ষা করে থাকতো কবে আবার আসবে, স্কুলের গণ্ডি কাটিয়ে একটু আনন্দে মেতে উঠবে। ওদের কাছে গন্ধ আর স্পর্শের অনুভূতি সবচেয়ে বড় রং, তাই এইটুকু আনন্দ ওদের কাছে বড়ো পাওনা। আর এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই শিশুদের কন্ঠে ভেসে উঠেছিল সুন্দর সুন্দর সংগীত আর তার তালে তালে নৃত্য।

এই অনুষ্ঠান দেখতে ছোট ছোট শিশুদের পরিবার মা বাবা উপস্থিত ছিলেন এমনকি, শিক্ষক-শিক্ষিকা রাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এই অনুষ্ঠানে।

শারদীয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি সৌমন কুমার সাহা বলেন, আমাদের শারদীয়া ফুলদোল দেখতে দেখতে ১২ তম বর্ষে পদার্পণ করল, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সকল শিশুদের নিয়েই শারদীয়া ফুলদোল উৎসব করে আসছি, যাহারা জগতের আলো দেখতে পায় না, একটি গন্ডির মধ্যে দিন কাটে, যাহারা শুধু স্পর্শের মধ্য দিয়ে সব কিছু অনুভূতি করতে পারে, তাদের মধ্যে এই ফুলের গন্ধ ফুলদোল উৎসবকে মাতিয়ে তোলে, যেখানে কোন কেমিক্যাল থাকেনা, কোন রং থাকে না, বিভিন্ন রকমের ফুলের গন্ধে অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। ওদের কাছে এটাই বড় পাওনা। আমি চেষ্টা করি এই শিশুদের পাশে থেকে কিছু করার, আজও তাহাদের হাতে কিছু উপহার সামগ্রী আমি তুলে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি।

স্কুলের শিক্ষক অমিও সৎপতি মহাশয় বলেন, আজকের দিনে ওদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে ,আমি নিজেকে ধন্য মনে করি, কৃতজ্ঞতা জানালেন শারদীয়া ফুল দলের প্রতিষ্ঠাতা কে, যেভাবে দৃষ্টিহীন শিশুদের নিয়ে তিনি কাজ করে চলেছেন, তাহাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন আমাদের স্কুলের তরফ থেকে ধন্যবাদ জানাই। এই উৎসব আরো বড় হোক এগিয়ে চলুক এই কামনা করি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *