শিকারপুরে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে রামদা হামলায় রুবেল হোসেন গুরুতর আহত

print news

এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

image 61

বগুড়া সদর উপজেলার শিকারপুর মৌজায় দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের রামদা হামলায় রুবেল হোসেন (মিছু সোনার বংশধর) গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শনিবার মামলার শুনানি শেষে আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন তিনি। বর্তমানে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন; চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিকারপুর মৌজার (জে.নং–৭০, খতিয়ান নং–১৭৯ এবং সিএস-এমআর খতিয়ান নং–১৮০) অনুযায়ী মিছু প্রাং পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে মোট ৩ একর ০৯৬ শতক জমির মালিকানা রয়েছে। জমিটি ১২ দাগে বিভক্ত—৮৫৭, ১৩৬০, ১৪৫৬, ১৪৮৪, ১৫২৩, ১৫২৭, ১৫২৯, ১৫৩০, ১৫৪৭, ১৭০০, ১৭৩৭ ও ১৪৭১–৩৪১৪।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই ১২ দাগের মধ্যে দাগ নং ১৪৮৪ এর মাত্র ৯ শতক জমি বাহার উদ্দিনের নামে বিক্রি হলেও তিনি পুরো ৩ একর ০৯৬ শতক জমিই নিজের দখলে দাবি করছেন। সরকারি এমআরএ রেকর্ড অনুযায়ী তাঁর পিতা জানিব উদ্দিনের সঙ্গে মিছু প্রাং পরিবারের কোনো উত্তরাধিকার সম্পর্ক নেই।

জমি দখলের এমন অভিযোগের পর প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে মোঃ তছলিম উদ্দিন প্রাং দিং বাদী হয়ে মোকদ্দমা নং–১৪৯/২০২৩ দায়ের করেন। সেই মামলার শুনানি শেষে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে বাহার উদ্দিনপক্ষের মোঃ রানা মিয়া (৩৫), সাজু মিয়া (৪০), সেতু (৩২), রাজু (৪২), মোঃ মামুন (৪২), সাদিক (৩০), নুরুন্নবী (৩৫), আইনুর (৫০) ও আরও অজ্ঞাতনামা ১০–১২ জন রুবেল হোসেনকে লক্ষ্য করে রামদা, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

স্থানীয়রা জানান, রফিকুল ইসলাম (বাহার উদ্দিনের পিতা) এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য সুলতান সরকারের নির্দেশে এ হামলা সংগঠিত হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, মাত্র ৯ শতক জমি ক্রয়ের মাধ্যমে ১২ দাগের বিস্তীর্ণ জমি দখলের চেষ্টা এবং এ নিয়ে সশস্ত্র হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁরা আশা করেন—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *