
কিশোরগঞ্জের ইটনায় তিন হাজারেরও বেশি কবর খোঁড়া সেই নিঃস্বার্থ মানুষ মনু মিয়া (৭৩) আর নেই। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
জীবনের প্রায় অর্ধশত বছর তিনি ব্যয় করেছেন কবর খননের মহৎ কাজে, বিনিময়ে কখনো কোনো পারিশ্রমিক নেননি। আশপাশের গ্রাম ও জেলাজুড়ে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে।
জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির উদ্দিন জানান, শনিবার আসরের নামাজের পর জয়সিদ্ধি কবরস্থান মাঠে জানাজা শেষে সেখানেই তাকে দাফন করা হবে। মনু মিয়া স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।
প্রায় ৪৯ বছর ধরে মনু মিয়া বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কবর খুঁড়েছেন নিঃস্বার্থভাবে। মৃতের বাড়িতে ছুটে যেতে তিনি একসময় দোকান বিক্রি করে কিনেছিলেন একটি ঘোড়া, যেটি ছিল তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।
তবে কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে দুর্বৃত্তরা তার প্রিয় ঘোড়াটিকে হত্যা করে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানান ঢাকার আইনজীবী ও এলাকার সন্তান অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ রোকন রেজা।
ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন, “ঘোড়ার মৃত্যুর পর থেকেই মনু মিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়েন। আজ আমরা হারালাম একজন দয়ার সাগর, নিঃস্বার্থ মানুষকে—যার অভাব কখনো পূরণ হওয়ার নয়।”