সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় ওসি সহ মামলা প্রত্যাহারের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

print news

স্টাফ রিপোর্টার : 

Img


রাজশাহীতে ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় নগরীর জিরোপয়েন্টে (রাজশাহী প্রেসক্লাবের সামনে) অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা অংশ নেন। এছাড়াও রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব, রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরাম, রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাব তাদের নিজস্ব ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করেন।

মামলার আসামিরা হলেন ‘রাজশাহীর আলো’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আজিবার রহমান, সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ফায়সাল আহম্মেদ, আরটিভির ক্যামেরাম্যান আরিফুল হক রনি, কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি নাঈম হোসেন, গণমুক্তি পত্রিকার ব্যুরো প্রধান মাজহারুল ইসলাম চপল এবং ‘আজকের প্রত্যাশা’র সাংবাদিক নাজমুল হক। তবে ঘটনার ভিডিওচিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করছে।

উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফটো সাংবাদিক এসোসিয়েশন রাজশাহীর শাখার সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সভাপতি শামসুল ইসলাম, সাংগঠনিক লিয়াকত আলী, সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদসহ অনেকেই।
মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা আজকের এই মামলা কোনো সাধারণ মামলা নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ ও সত্যকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টার মাত্র। এই ষড়যন্ত্রে শাহমুখদুম থানার ওসি মাছুমা মুস্তারীর প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে। সাংবাদিকরা যখন প্রতারক আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়েছিলেন ওসি সেটিকে সামান্য জিডিতে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। অথচ সেই প্রতারকের পক্ষ নিয়ে ৭ দিন পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই মামলা গ্রহণ করেছেন তিনি।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা আরও অভিযোগ করেন, ওসি মাছুমা মুস্তারী নিজের অবৈধ সম্পদ, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড আড়াল করতে প্রতারকের হাত ধরে সাংবাদিকদের হয়রানির পথ বেছে নিয়েছেন। সাংবাদিকরা তার এসব অপকর্ম সমাজের সামনে আনতে চেয়েছিলেন বলেই আজ তারা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ওসি মাছুমা মুস্তারীকে অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, অবৈধ সম্পদের হিসাব এবং দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের কাছে উদার্ত আহ্বান জানান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নয়, দুর্নীতিবাজ ও প্রতারকের বিরুদ্ধেই আইন কঠোর হতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপি কমিশনার আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। কেউ নির্দোষ হলে তদন্ত শেষে তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।” তবে আরএমপি মিডিয়া মুখপাত্র এডিসি গাজিউর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *