এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

বগুড়া জেলা গাবতলী উপজেলা ২নং সোনারায় ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেকপাড়া গ্রাম এ অঞ্চলের রাজনীতি, উন্নয়ন ও মানবিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি পরিচিত নাম। এই গ্রামের কৃতি সন্তান ওয়ালীউল হক বিলু মাস্টার ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর সততা, আদর্শ ও মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আজও এলাকার মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়। সময়ের ব্যবধানে তিনি প্রয়াত হলেও তাঁর দেখানো পথ ও আদর্শ আজও বহন করে চলেছে তাঁর পরিবার।ওয়ালীউল হক বিলু মাস্টার রাজনীতিকে কখনো ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের হাতিয়ার বানাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন—রাজনীতি মানে মানুষের সেবা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই দর্শন থেকেই তিনি টানা তিনবার সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর আমলেই ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরে আসে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দূরত্ব কমে আসে।বাবার এই আদর্শ ছোটবেলা থেকেই কাছ থেকে দেখেছেন তাঁর বড় ছেলে আইনুল হক বিদ্যুৎ। ফলে সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ তাঁর ব্যক্তিত্বে স্বাভাবিকভাবেই গড়ে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, বাবার মতো তিনিও এলাকার উন্নয়ন ভাবনায় বিশ্বাসী। শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তিনি সবসময় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন।তবে রাজনীতির মাঠে জনপ্রিয়তা যেমন ভালোবাসা আনে, তেমনি কিছু কুচক্রী মহলের ঈর্ষাও ডেকে আনে। আইনুল হক বিদ্যুৎ যখন মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন, তখন তাঁকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা শুরু হয় বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়।এক পর্যায়ে সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম তারাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মামলায় আইনুল হক বিদ্যুৎকে জড়ানো হয়। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সত্য উদঘাটিত হয়। মামলায় প্রমাণিত হয়—আইনুল হক বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ নির্দোষ। পরবর্তীতে তিনি বেগুন সুস খালাস পান। এই রায়কে স্থানীয়রা সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হিসেবেই দেখেন।এই ঘটনার পর আইনুল হক বিদ্যুতের প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়। অনেকের মতে, যদি তিনি অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকতেন, তবে সত্য কখনো প্রকাশ পেত না। বাবার মতোই তিনি ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন এবং আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছেন।সাবেকপাড়া গ্রাম ও সোনারায় ইউনিয়নের মানুষ আজও ওয়ালীউল হক বিলু মাস্টারের পরিবারকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। কারণ এই পরিবার কখনো রাজনীতিকে ব্যবসার পুঁজি বানায়নি। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেনি, বরং ইউনিয়ন পরিষদ হোক বা রাজনৈতিক অঙ্গন—সবখানেই নিজেদের পরিচয় দিয়েছে জনগণের সেবক হিসেবে।
ওয়ালীউল হক বিলু মাস্টার জীবদ্দশায় দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ তাঁকে সম্মান করত। আজও তাঁর পরিবারের প্রতি সেই ভালোবাসা অটুট রয়েছে। কারণ তারা কখনো বিভাজনের রাজনীতি করেনি, বরং ঐক্যের মাধ্যমে উন্নয়নের কথা বলেছে।আইনুল হক বিদ্যুৎ বাবার আদর্শ বুকে ধারণ করে এখনো এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত আছেন। তরুণ সমাজকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষা ও মানবিক কাজে অংশগ্রহণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি—এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করছেন যে নেতৃত্ব মানে শুধু পদ-পদবি নয়, নেতৃত্ব মানে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।রাজনীতিতে অনেকেই আসে ব্যক্তিগত লাভের আশায়, আবার কেউ কেউ থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে। ওয়ালীউল হক বিলু মাস্টার ও তাঁর পরিবার সেই বিরল উদাহরণ, যারা রাজনীতিকে মানুষের ভালোবাসা ও সেবার মাধ্যমে অর্থবহ করে তুলেছে। এই কারণেই এই পরিবারের অবদান ও জনপ্রিয়তা সোনারায় ইউনিয়নের রাজনীতি ও সামাজিক জীবনে কখনো ম্লান হবে না।সময় যতই এগিয়ে যাক, সাবেকপাড়া গ্রামের এই কৃতি পরিবারের নাম ইতিহাসে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হবে। কারণ তারা দেখিয়ে দিয়েছে—সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না, আদর্শকে থামানো যায় না। বাবার দেখানো পথে চলা আইনুল হক বিদ্যুৎ আজ সেই সত্যেরই জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
দৈনিক নব জাগরণ/Daily Nobo Jagoron
Email : newsnobojagoron@gmail.com
Nobo Jagoron