সুপ্রিম কোর্টের আদেশে মুরইল ইউনিয়ন পরিষদের বৈধ চেয়ারম্যান শিহাব শেখ

print news

এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

img

বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা শেষে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশে পরিষ্কার হয়েছে— প্যানেল চেয়ারম্যান-২ মোঃ শিহাব শেখ-ই বৈধভাবে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন।

মুরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আব্দুল জলিল সাহেবের অকাল মৃত্যুতে চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়। পরে ১ নং প্যানেল চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক মল্লিক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ মোঃ শিহাব শেখকে দায়িত্ব প্রদান করে। কিন্তু মাত্র দুই দিন পর, ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে সেই আদেশ বাতিল করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এ অবস্থায় শিহাব শেখ হাইকোর্টে রিট (নং-৫৬৬৯/২০২৫) দায়ের করেন। হাইকোর্টের আদেশে ১৮ জুন ২০২৫ তারিখে তাকে পুনরায় প্যানেল চেয়ারম্যান-২ হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ইমদাদুল হক মল্লিক সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে (আপিল নং-২৮৫৯/২০২৫), আপিল বিভাগ রুল জারি করে। সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের বেঞ্চ থেকে ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আদেশে বলা হয়—
“হাইকোর্ট বিভাগের ২৫.০৫.২০২৫ তারিখের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।”
অর্থাৎ, হাইকোর্টের আদেশই কার্যকর, ফলে শিহাব শেখের দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের বগুড়ার উপ-পরিচালক মাসুদ আলী বেগ বলেন, “হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়েছে ভেবে আমরা প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে চিঠি প্রদান করেছিলাম। তবে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে এখন পরিষ্কার— হাইকোর্টের আগের নির্দেশই বহাল আছে। তাই শিহাব শেখ দায়িত্ব পালনে বৈধ।”

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি আসার পর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের অফিসিয়াল পাসওয়ার্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ইউনিয়নের সরকারি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য তবিবুর রহমান ও সোহাগ ফকির বলেন, “শিহাব শেখ অল্প সময়ের মধ্যেই ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা আসা উচিত নয়।”

স্থানীয় ইউপি সদস্যবৃন্দ ও এলাকাবাসী দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের পাসওয়ার্ড খুলে দিয়ে কার্যক্রম সচল করার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *