
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। এই সময়ের মধ্যে খুনিদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে এক সমাবেশ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন। এর আগে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান দাবিগুলো:
খুনিদের গ্রেফতার: ওসমান হাদির হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী এবং সহায়তাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত করা।
গোয়েন্দা সংস্থায় শুদ্ধি অভিযান: সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে থাকা ‘আওয়ামী দোসরদের’ দ্রুত অপসারণ ও গ্রেফতার।
সরকারের জবাবদিহি: হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জনগণের সামনে এসে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই জাগরণের প্রাণ এবং জনতার কণ্ঠস্বর। তাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার এবং আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ওসমান হাদিকে খুন করার ১৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও রাষ্ট্র কেন বলতে পারছে না খুনিরা কোথায়?” জাবের আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল আওয়ামী লীগ নয়, অন্য কোনো রাজনৈতিক মহলের যোগসাজশ থাকলেও তা তদন্ত করে বের করতে হবে।
পরবর্তী কর্মসূচি
দাবি আদায়ে আগামীকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় পুনরায় শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার এবং কোনো প্রকার ভাঙচুরে না জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, উপ-উপাচার্য এবং প্রক্টরসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পৌঁছায়। ময়নাতদন্ত শেষে আজ তার দাফন সম্পন্ন হলো। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শাহবাগ ও মিন্টো রোড এলাকায় জলকামান ও বিজিবিসহ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।