
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে—অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
ঘোষণাটিকে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এপ্রিল মাসকে নির্বাচনের অনুকূল সময় হিসেবে মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি, নির্বাচন হতে হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই।
রবিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচন এপ্রিলের প্রথমার্ধে করার সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত তিনটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে—সংস্কার, বিচার (ট্রায়াল) ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি।
প্রেস সচিব বলেন, ‘ইতোমধ্যে সংস্কারমূলক কাজের জন্য ১২ থেকে ১৫টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। সেসব কমিশনের সুপারিশ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, “২০২3 সালের জুলাই-আগস্টে দেশে সংঘটিত সহিংসতায় অনেক শিশু ও নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য নিরপেক্ষ ট্রায়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই বিচার যেন আন্তর্জাতিক মান ও ডিউ প্রসেস মেনে হয়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি।”
এছাড়া, একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতির দিকটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এপ্রিলে গরম ও কালবৈশাখীর ঝুঁকি থাকায় নির্বাচন অনুপযোগী—বিরোধী দলের এমন যুক্তির জবাবে শফিকুল আলম বলেন, “আমরা আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলেছি। এপ্রিলের প্রথম ১০ দিন তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকে এবং বড় ধরনের কালবৈশাখীর ঝুঁকি কম।”
তিনি আরও বলেন, “কালবৈশাখী সাধারণত বৈশাখ মাসে (মধ্য এপ্রিলের পর) বেশি হয় এবং তাও স্থানীয়ভাবে সীমিত থাকে। এপ্রিলের প্রথমার্ধ তাই নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময়।”
আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও তত্ত্বাবধায়ক কাঠামোর অধীনে ভোটের দাবিতে একাধিক রাজনৈতিক দল আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সময়সূচি ঘোষণাকে অনেকেই ‘পূর্ব নির্ধারিত রূপরেখার অংশ’ হিসেবে দেখছেন।
এখন দেখার বিষয়—বিরোধী দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার প্রস্তাবিত সময়সূচিকে কতটা মেনে নেয় এবং নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে কতটা রাজনৈতিক সমঝোতা সম্ভব হয়। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও সহিংসতা এড়াতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।