ভালোবাসা, আস্থা আর মানবিকতার মূর্ত প্রতীক মরহুম মো. ওয়ালিউল হক বিলু মাস্টার আজও জনগণের হৃদয়ে অম্লান

print news

এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

img

বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার ২ নং সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সফল চেয়ারম্যান মরহুম মো. ওয়ালিউল হক বিলু মাস্টার ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার বানাননি। মানুষের সেবা, ন্যায় ও মানবিকতা ছিল তাঁর জীবনের মূল দিক। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন, কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা কেবল দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সমস্ত রাজনৈতিক দলের মানুষ তাঁকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে একজন প্রকৃত জনপ্রতিনিধি কেমন হওয়া উচিত।

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মো. ওয়ালিউল হক বিলু মাস্টার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে বগুড়া-৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নির্বাচনের ফলাফলে বেগম খালেদা জিয়া পান ১,০৭,৪১৬ ভোট এবং মো. ওয়ালিউল হক বিলু মাস্টার পান ২৫,২৭৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত প্রার্থী। নির্বাচনের পরও কোনো রাজনৈতিক দল তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেনি। কারণ তিনি সবসময় রাজনীতিকে মানুষের সেবার উচ্চতায় রেখেছিলেন, কখনো দ্বন্দ্ব বা প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানাননি।

দুইবারের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রসার, মসজিদ-মাদ্রাসার সংস্কার, সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ—সব ক্ষেত্রেই মো. ওয়ালিউল হক বিলু মাস্টার ছিলেন ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয়। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সহজে তাঁর কাছে পৌঁছাতেন, এবং তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকতেন।

রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংগঠনগতভাবে শক্তিশালী হয়। তবে তিনি কখনো দলের সীমারেখার ভেতরে আবদ্ধ ছিলেন না। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত বা অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দও তাঁকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে গাবতলীর মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছে “সবার নেতা” হিসেবে পরিচিত করেছে।

গাবতলী উপজেলা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি। আওয়ামী লীগের নেতা হওয়া সত্ত্বেও মো. ওয়ালিউল হক বিলু মাস্টার সবসময় জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষককে সম্মান জানানো মানে স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা।

ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সরল, বিনয়ী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখতেন। মানুষকে তিনি সত্যিকারের ভালোবাসতেন। তাঁর পরিবারও তাঁর এই নীতি অনুসরণ করে চলে আসছে। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে তাঁর সন্তানরা তাঁর উচ্চতা স্পর্শ করতে পারেননি।

আজও গাবতলীর মানুষ মরহুম মো. ওয়ালিউল হক বিলু মাস্টারকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে। তাঁর সততা, মানবিকতা, কর্মদক্ষতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। প্রকৃত অর্থে তিনি ছিলেন ভালোবাসা, আস্থা আর মানবিকতার মূর্ত প্রতীক, যিনি জনগণের হৃদয়ে আজও অম্লান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *