এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

গাবতলী উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নাম সুরাইয়া জেরিন রনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাহসী এই নেত্রী তাঁর নিরলস সংগ্রাম, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং ত্যাগের জন্য ইতিমধ্যেই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব শুধু দলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষও তাঁকে একজন প্রকৃত জননেত্রী হিসেবে দেখেন। রনি শুরু থেকেই বিএনপির তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তিনি দলের হয়ে কঠিন সময়ে যেমন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন, তেমনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (জেলা মহিলা দল, বগুড়া), যুব মহিলা সমিতির সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনীতির প্রতিটি বাঁকে সুরাইয়া জেরিন রনি সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গাবতলী উপজেলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রতিটি মুহূর্তে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তিনি গাবতলী উপজেলায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর নির্ভীক নেতৃত্বে বিএনপির তৃণমূল নতুনভাবে সংগঠিত হয়েছে। গাবতলী উপজেলায় বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি এবং নেতৃত্ব দলীয় নেতাকর্মীদের উৎসাহিত করে চলেছে। গাবতলী উপজেলার সাধারণ মানুষ মনে করেন, সুরাইয়া জেরিন রনি শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং একজন আন্তরিক সেবক। এলাকাবাসীর আশা, আগামী দিনগুলোতে তিনি পুনরায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তাঁদের বিশ্বাস, তাঁর নেতৃত্বেই গাবতলী উপজেলা উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রনি আপা আমাদের অভিভাবক। তিনি সব সময় আমাদের সমস্যার পাশে থাকেন। আমরা চাই আগামী নির্বাচনে তাঁকে আবারও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে।” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সুরাইয়া জেরিন রনি দলের নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বিএনপি আজও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নেতাকর্মীরা রাস্তায় থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ একদিন গড়ে তুলতে পারবো।” তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আগামীতে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। আমরা যারা তৃণমূলের নেতাকর্মী, তাদের লক্ষ্য হলো মানুষের পাশে থেকে তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।” সুরাইয়া জেরিন রনির কাজ ও নেতৃত্ব তরুণ সমাজের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তিনি সর্বদা তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন এবং মনে করেন, তরুণদের ইতিবাচক ভূমিকা দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
গাবতলীর যুব সমাজ তাঁর কর্মপ্রচেষ্টায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। গাবতলীর উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সুরাইয়া জেরিন রনি দৃঢ় প্রত্যয়ী। তিনি জানান, “যদি এলাকাবাসী আমাকে আবারও দায়িত্ব দেয়, তবে আমি এই উপজেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেবো। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমি একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে চাই।” রাজনীতির মাঠে যেমন সাহসী, তেমনি সেবামূলক কর্মকাণ্ডে আন্তরিক সুরাইয়া জেরিন রনি এখন গাবতলীর মানুষের মনে আশার প্রতীক। বিএনপির এই নেত্রী ভবিষ্যতেও দলের সংগ্রাম ও সেবা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে মানুষের হৃদয়ে আরও গভীরভাবে স্থান করে নেবেন—এমনটাই আশা করছে গাবতলী উপজেলা বিএনপি ও সাধারণ মানুষ।