এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া প্রতিনিধিঃ

বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের পাঁচকাতুলী গ্রামের বাসিন্দা মনিরা ইয়াসমিন মুক্তা তার প্রাক্তন স্বামী মোঃ রুবেল হোসেন ও তার দুই বোনের দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
মনিরা ইয়াসমিন জানান, ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর বড় ভাই মোঃ আব্দুর রহমান রাঙ্গা মৃত্যুবরণ করার পর দেওর রুবেল হোসেন অর্থ আত্মসাৎ ও সম্পত্তি ভোগের উদ্দেশ্যে তাকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় তিনি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং সম্পত্তির প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন না করে বিদেশ পাড়ি জমান।
এরপর থেকে রুবেল হোসেন তার দুই বোনের প্ররোচনায় বিভিন্ন সময় মনিরাকে হয়রানি করে আসছেন। ওই দুই বোন হলেন মোছাঃ রেহেনা বেগম স্বামী মৃত মজনু মিয়া সাং উনচুরখী মধ্যপাড়া গাবতলী বগুড়া এবং মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন স্বামী আব্দুল লতিফ সাং হটিলাপুর জোড়গাছা হাট বগুড়া সদর,বগুড়া । তাদের এই অন্যায় কাজে সহযোগিতা করছেন মোঃ রাসেল আহম্মেদ পিতাঃ মৃত মজনু মিয়া সাং উনচুরখী মধ্যপাড়াগাবতলী বগুড়া,মোঃ হাবিবুর রহমান পিতাঃ এনামুল হক সাং কদিমপাড়া,জোড়গাছা হাট,বগুড়া সদর, বগুড়া, মোঃ শহিদুল ইসলাম পিতাঃ মোসলেম উদ্দিন সাকিদার,পাচঁকাতুলী,রামেশ্বরপুর, গাবতলী বগুড়া,
মোছাঃ রুমা স্বামীঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম পাঁচকাতুলি, রামেশ্বরপুর, গাবতলী বগুড়া,মোছাঃ ফ্যামেলি বেগম,স্বামীঃ মোঃ আবুল হোসেন পাঁচকাতুলি, রামেশ্বরপুর, গাবতলী, বগুড়া, মোঃ আবুল হোসেন পিতাঃ জমির উদ্দিন পাঁচকাতুলি, রামেশ্বরপুর, গাবতলী বগুড়া,মোছাঃ নাসরিন আকতার, স্বামীঃ মোঃ মানিক মিয়া পাঁচকাতুলি, রামেশ্বরপুর, গাবতলী বগুড়া।
মনিরার অভিযোগ, রেহেনা বেগম ও সাবিনা ইয়াসমিন পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে একের পর এক তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এমনকি অভিযোগপত্রে রেহেনা বেগম তার ভাবির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বাবু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে দাবি করেন। কিন্তু পুলিশি তদন্ত ও আদালতের রিপোর্টে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। শেষ পর্যন্ত মনিরা ইয়াসমিন তিনটি মামলায়ই বিজয়ী হন।
এসব ঘটনায় ব্যর্থ হয়ে দুই বোনের চাপে রুবেল হোসেন চার বছর আগে মনিরাকে তালাক দেন। এরপরও রুবেল ও তার দুই বোন তাকে উচ্ছেদ এবং হয়রানির ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে রুবেল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিককে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি না লেখার প্রস্তাব দেন। রাজি না হলে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “আপনারা যদি জোর করে আমাকে পুনরায় তাকে নিতে বাধ্য করেন তাহলে আমি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।”
ভুক্তভোগী মনিরা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতাস রাশেদ পিতাঃ মোজাহার আলী পাঁচকাতুলি, রামেশ্বরপুর, গাবতলী বগুড়া, ও আল আমিন পিতাঃ মোঃ আফসার আলী পাঁচকাতুলি, রামেশ্বরপুর, গাবতলী বগুড়া, রুবেল হোসেন এর পক্ষ নিয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি গাবতলী থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে মনিরা ইয়াসমিন মুক্তা তার স্বামী রুবেল হোসেনের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে রামেশ্বরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, “ইতিপূর্বে এ বিষয়ে আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ এসেছিল। বিষয়টি তদন্তে সঠিক পাওয়া গেছে। মনিরা ইয়াসমিন মুক্তা একজন সহজ-সরল ধার্মিক মেয়ে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। রুবেল হোসেন অর্থের লোভে বড় ভাইয়ের বউকে বিয়ে করেছে এবং তার অর্থ আত্মসাৎ করেছে বিধায় তাকেই মনিরাকে নিয়ে সংসার করে খেতে হবে।”
এদিকে এলাকাবাসী জানান, “মনিরা ইয়াসমিন তার তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে শত অন্যায় সহ্য করেও এখনো সংসার চালাচ্ছেন। রুবেল হোসেনের উচিত আবারো নতুন করে তাকে নিয়ে সংসার শুরু করা।