মোঃ মেহেদী হাসান জনি
বুড়িচং উপজেলা প্রতিনিধি. কুমিল্লা

কুমিল্লায় ঘুষ, তদবির বা কোনো হয়রানি ছাড়াই ৪৭ জন তরুণ ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গতকাল রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নাজির আহমেদ খান পুলিশ লাইন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
নিয়োগ পাওয়া সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে ৪৫ জন সাধারণ কোটায়, একজন মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় নির্বাচিত হয়েছেন। পুলিশ লাইন্সের শহীদ আরআই এবিএম আবদুল হালিম মিনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের বরণ করে নেয় জেলা পুলিশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার এসপি মো. নাজির আহমেদ খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাইদ মো. গাউছাল আজম এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকুল চাকমা প্রমুখ।
এসপি নাজির আহমেদ খান বলেন, ঘুষ ছাড়া নিয়োগ দেওয়া সম্ভব, আমরা সেটিই প্রমাণ করেছি। এখানে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা সবাই যোগ্য ও মেধাবী। আমি বিশ্বাস করি, তারা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
চলতি বছরের জুন মাসে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স মাঠে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় মোট ১ হাজার ৮৯১ জন আবেদন করেন। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৬৩৭ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪৭ জন, এবং চূড়ান্তভাবে তাদের সবাই নিয়োগ পান।
চাকরি পাওয়া সদর দক্ষিণের তরুণ এমরান হোসেন জানান, কোনো টাকা লাগে নাই, কেউ চায়ও নাই। দালালের খপ্পরে পড়ি নাই। আমার বাবা একজন সিএনজি চালক। বাবা-মায়ের দোয়ায় আল্লাহ আমার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। মনে হচ্ছে বাংলাদেশ বদলাচ্ছে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সজিব বলেন, এখন বিশ্বাস হচ্ছে, যোগ্যতা থাকলে সরকারি চাকরি পাওয়া যায়। আমাদের গ্রামে সবাই অবাক হয়ে গেছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত এমরানের বাবা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, ছেলের চাকরির জন্য বাড়ি বিক্রি করার কথা ভাবছিলাম। আল্লাহর রহমতে কিছুই লাগেনি, শুধু পরিশ্রম আর প্রার্থনা।
কুমিল্লায় পুলিশের এ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং ঘুষ ছাড়াই সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব — এ বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।