এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্নিঝরা সময়ে যে ক’জন তরুণ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি তৃণমূল থেকে উঠে এসে সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম নাম মোঃ এম আর ইসলাম রাখু। তিনি বর্তমানে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হলেও আজ তিনি নেপালতলী ইউনিয়নের গর্বিত সন্তান হিসেবে দলের একজন পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।
রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রায় ১৭ বছর আগে। স্বৈরাচারী সরকারের নানা ষড়যন্ত্র এবং বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে প্রতিকূল সময়ে তিনি ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির ভরসাস্থল। শুধু সংগঠন রক্ষাই নয়, তিনি সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মনোবল অটুট রাখতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছেন। তার সেই নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা তাকে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছেন। তৃণমূলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে একত্রিত করে আগামী দিনের একটি মডেল নেপালতলী ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো তাদের পাশে থেকে বাস্তবিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এবং তাদের চাওয়া-পাওয়ার সঠিক প্রতিফলন ঘটানো।
সম্প্রতি বিএনপির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেপালতলী ইউনিয়ন থেকে হাজারো নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত হয়ে সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন এ তরুণ নেতা। তার নেতৃত্বে এত বিপুলসংখ্যক কর্মীর উপস্থিতি শুধু ইউনিয়ন নয়, পুরো গাবতলী উপজেলায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এতে প্রমাণ হয়েছে যে, তিনি তৃণমূলের কাছে কতটা জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য।
ইতিমধ্যেই তার নিরলস পরিশ্রম ও মানবিক আচরণে নেপালতলী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তার প্রতি ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট হচ্ছেন। তারা বলছেন, অতীতে অনেক নেতা নির্বাচনকালীন সময়ে হাজারো প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়ালেও নির্বাচন শেষ হলেই সাধারণ মানুষের কাছে তাদের দেখা মেলেনি। কিন্তু মোঃ এম আর ইসলাম রাখু সেই ব্যতিক্রমী নেতা যিনি সবসময় মানুষের পাশে থেকে, সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আসল রাজনীতি কীভাবে করতে হয়।
তৃণমূলের মানুষের প্রত্যাশা—একদিন তিনি নেপালতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবেন। তাদের বিশ্বাস, রাখুর মতো একজন তরুণ, সৎ, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা এ ইউনিয়নকে আধুনিক উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম। তার লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক পদ-পদবি নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জন ও একটি উন্নত সমাজ গঠন।
তিনি সর্বদা উচ্চারণ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগামী দিনে দেশনায়ক তারেক রহমানের হাত ধরে গাবতলীসহ সারাদেশের উন্নয়নে অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন মোঃ এম আর ইসলাম রাখু।
তার ভিশন হলো—নেপালতলী ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি জনগণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চান। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রেখে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি বারবার উল্লেখ করে থাকেন।
স্থানীয়রা মনে করেন, একজন তরুণ নেতা হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন যে, তিনি শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন; বরং কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার প্রতি জনগণের এই আস্থা প্রমাণ করে যে, আগামী দিনের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় তিনি নেতৃত্ব দিলে নেপালতলী ইউনিয়ন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
অতএব বলা যায়, ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এ তরুণ নেতা শুধু সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নন, বরং তিনি আগামী দিনের আশার আলো। গাবতলী উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে তার উপস্থিতি যেমন নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে, তেমনি নেপালতলী ইউনিয়নের মানুষও তাকে তাদের ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। তারুণ্যের প্রেরণা ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে তিনি একদিন নিশ্চিতভাবেই স্থানীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হবেন।