
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বাশিয়া গ্রামে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মো. সাগর মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত সাগর মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি বর্তমানে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত সাগর মিয়া উপজেলার টাংগাব ইউনিয়নের বাশিয়া গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে। তার সঙ্গে একই গ্রামের মো. দিদারুল ইসলাম ওরফে সুজন (৩৮), মো. সোহাগ (৩৮), আতিকুর রহমান ওরফে সুমন (৩৫), মো. মোস্তফা (৪৬), মো. রিয়াজ (২৮), আতাউর (৩০)সহ স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী সমর্থকের দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে জুমার নামাজ শেষে বাশিয়া এলাকার জনৈক মাসুমের বন্ধ দোকানের সামনে কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে উল্লিখিত আসামিরা দেশীয় অস্ত্র—রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও পাথর নিয়ে সাগর মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত সাগর মিয়া বলেন, “১ নম্বর আসামি দিদারুলের নির্দেশে ২ নম্বর আসামি সোহাগ লোহার রড দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে আমি বাম হাতে প্রতিহত করি, এতে আমার কনুই ভেঙে যায়। এরপর ৩ নম্বর আসামি আতিকুর রহমান সুমন পাথর দিয়ে আমার বুকের ডান পাশে আঘাত করে।”
এ সময় অন্যান্য আসামিরা এলোপাতাড়ি আঘাত করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। হামলাকারীরা তার ভিভো স্মার্টফোন ভেঙে ফেলে এবং সঙ্গে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা “পরবর্তীতে খুন করে ফেলবে” বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী আহত অবস্থায় সাগর মিয়াকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ১৮ অক্টোবর তাকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা আওয়ামী সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজ স্বভাবের লোক, যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নিয়মিত ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। বর্তমানে আহত সাগর মিয়া জীবননাশের আশঙ্কায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে, হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বাশিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বক্তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, “এই হামলা ছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার ঘৃণ্য চেষ্টা, আমরা তা বরদাস্ত করব না।”
এ বিষয়ে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “লিখিত অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রতিবাদ সমাবেশ:
গত ২১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় যুবদল নেতা সাগরের ওপর হামলার প্রতিবাদে টাংগাব ইউনিয়নের বাকশি বাঘের বাজারে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অবিভক্ত ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইদ্রিস মেম্বার এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দত্তের বাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শান্ত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— পাগলা থানা কৃষক দলের আহ্বায়ক দ্বীন ইসলাম, দত্তের বাজার ইউনিয়ন বিএনপির নেতা জাহাঙ্গীর মেম্বার ও গিয়াস উদ্দীন, টাংগাব ইউনিয়ন বিএনপির নেতা রতন, টাংগাব ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক প্রার্থী ফেরদৌস কবির, দত্তের বাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক প্রার্থী হাদিউল ইসলাম সুজন, উস্তি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম হৃদয়, আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজের আহ্বায়ক প্রার্থী শিহাব আল হৃদয়, উস্তি ইউনিয়ন যুবদল নেতা আলমগীর, উস্তি ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সপ্নিল, পাগলা থানা ছাত্রদল নেতা সাগর আকন্দ, নিগুয়ারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক প্রার্থী মোমেন মণ্ডলসহ পাগলা থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।