ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ও মানবতাকে লজ্জায় ফেলানো নির্মমতম ঘটনা।

print news

মোঃ কামরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)২০ নভেম্বর ২০২৫

pic

প্রবাসী পলাশের সাত বছর বয়সী শিশু পুত্র জায়ানকে আজ সকালে গ্রামবাসী ঝুলন্ত ও নিথর অবস্থায় উদ্ধার করে। নিষ্পাপ একটি শিশুর প্রতি এমন অমানবিক নিষ্ঠুরতা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।জায়ান, যে গতকালও খেলাধুলা ও হাসির শব্দে আঙিনাকে মুখরিত করত, আজ তাকে ঝুলিয়ে রাখা হলো প্রাণহীন, অসহায়, উন্মোচিত অবস্থায়—যেন তার উপর বর্ষিত হয়েছে নৃশংসতার শেষ সীমা। তাকে যে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়েছে, তা শুধু একটি অপরাধ নয়; এটি সভ্য সমাজের বুকে একটি গভীর কালো দাগ।

স্থানীয়রা জানায়, সকাল বেলায় শিশুটির দেহ প্রথম দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীর চিৎকারে চারদিক থেকে মানুষ জড়ো হয়। দৃশ্যটি এমন ছিল যে অনেকেই কান্না থামাতে পারেননি। একজন বয়স্ক ব্যক্তি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমি জীবনে অনেক কিছু দেখেছি, কিন্তু এই নিষ্ঠুরতা দেখলে বুকটা ভেঙে যায়। জায়ান তো কোনো অপরাধ করেনি… ও তো শুধু শিশু।”শিশুটিকে যে নরপশুরা হত্যা করেছে, তাদের সম্পর্কে এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে। তারা বলছে—এরা মানুষ নয়; মানবতার মুখোশধারী নোংরা পিশাচ। একজন মায়ের কোলে জন্ম নিয়ে যে বীভৎসতার জন্ম দেয়, সে মানবজাতির অংশ হওয়ার যোগ্যও নয়।

শিশু হত্যার মতো জঘন্য কর্ম যারা করতে পারে, তাদের হৃদয়ে কোনো করুণা, কোনো বিবেক, কোনো আলো নেই—এরা অন্ধকার, বর্বরতা ও নৃশংসতার প্রতীক।জায়ানের মা একবারও কথা বলতে পারছেন না—শোকে অচেতন হয়ে পড়েছেন বারবার। পরিবারটি যেন এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গেছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে এখন শোকের ছায়া। শিশুটির বন্ধু, খেলাধুলার সাথীরা বোঝে না কী হয়েছে, কিন্তু পরিবেশের ভারী নীরবতা তাদেরও কাঁদিয়ে তুলছে।ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেছে।

এলাকাবাসীর দাবি—এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বর্বরদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে উদাহরণযোগ্য শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে কোনো হায়েনা ভবিষ্যতে একটি শিশুর জীবনের দিকে তাকাতেও সাহস না পায়।এ ঘটনার পর পাকুড়িয়া গ্রামে শুধু শোক নয়—এক ধরনের শূন্যতা নেমে এসেছে। মাত্র সাত বছরের একটি শিশু, যার এখনো পৃথিবী দেখার শুরুই হয়নি, যার স্বপ্ন ছিল রঙিন, যার হাসি ছিল পরিবারের প্রাণ—সে আজ অমানবিকতার বলি। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়—এটি সমগ্র সমাজের বিবেককে আহত করেছে, মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, হৃদয়ে গভীর রক্তক্ষরণ সৃষ্টি করেছে।আজ পাকুড়িয়া গ্রাম শোকাহত, ক্ষুব্ধ, আর্তনাদে ভরা—একটি নিষ্পাপ শিশুর জন্য, যার নাম জায়ান… যার ছোট্ট জীবনটি থামিয়ে দিল কিছু নরপশুর নৃশংস নির্মমতা।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *