এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ছয়পুকুরিয়া বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ বগুড়া শহরের ১৫ নং ওয়ার্ডের গোদারপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ পাঁচ দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি নারী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আজ একটি সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠালগ্নে যেসব সমাজহিতৈষী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির অক্লান্ত পরিশ্রমে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিল, তাঁদের অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। তবে তাঁদের স্বপ্ন ও আদর্শকে ধারণ করে বর্তমান অধ্যক্ষ আইনুন নাহার সততা, দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে ছয়পুকুরিয়া বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেজি শিফট থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায় পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এখানে নিয়মিত লেখাপড়া করছে। আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্রীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসে। শিক্ষার মান ভালো হওয়ায় অভিভাবকদের আস্থা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়মিত পাঠদান, ভালো ফলাফল ও সুশৃঙ্খল শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম শক্তি।
গত ৫ই আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই ভূমিকা প্রশংসিত হলেও, এরপরই একটি কুচক্রী মহল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় বলে অভিযোগ উঠে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কলেজ গভর্নিং বডির সাবেক অভিভাবক সদস্য রাশেদুল হক রনি ও জামায়াত নেতা দিলওয়ার রহমান সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য, সাবেক অভিভাবক সদস্য রাশেদুল হক রনি এবং কলেজের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অধ্যক্ষ আইনুন নাহার এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর বিরুদ্ধে সম্মানহানির অপচেষ্টা চালানো হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে প্রথম দফা তদন্তে অর্থের বিনিময়ে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করানো হয় বলে জানা যায়। তবে বিষয়টি পুনরায় তদন্তের আওতায় আনা হলে দ্বিতীয় দফা তদন্তে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। কোনো অনিয়মের সত্যতা না পাওয়ায় তাঁকে পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়।
দায়িত্বে ফিরে এসে অধ্যক্ষ আইনুন নাহার আরও দৃঢ়তার সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে যাচ্ছেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন, ছাত্রীদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিত নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ছয়পুকুরিয়া বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ আজও নারী শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মতে, সকল ষড়যন্ত্র ও বাধা উপেক্ষা করে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং নারী শিক্ষা বিস্তারে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান