
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে জনসমুদ্রে রূপ নেওয়া এক বিশাল সমাবেশে সম্পন্ন হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা। বুধবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক।
উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাসহ বিশিষ্টজনরা
বেগম জিয়ার জানাজায় দেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ অংশ নেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিমান ও নৌবাহিনী প্রধানের উপস্থিতি ছাড়াও জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং দেশের সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ সারির নেতারা। জানাজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলো থেকে আসা মানুষের ঢলে খামারবাড়ি, আসাদগেট এবং ফার্মগেট এলাকা জনাকীর্ণ হয়ে পড়ে।
‘আমার মায়ের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী’ — তারেক রহমান
জানাজার ঠিক আগে মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন:
“মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন যদি আপনাদের কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি ইনশাল্লাহ তা পরিশোধের ব্যবস্থা করব।”
তিনি আরও বলেন, “উনার কোনো ব্যবহারে বা কথায় যদি কেউ কোনোভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে উনার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”
স্মৃতিচারণে দেশনেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম
জানাজার আগে বেগম খালেদা জিয়ার গৌরবময় জীবন ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক কর্ম তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে লিখিত বক্তব্যে তিনি বেগম জিয়ার জন্ম, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বৈবাহিক জীবন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের কথা উল্লেখ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংসদ ভবন এলাকার আশপাশের প্রতিটি সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ তাদের প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে ও বিদায় জানাতে মানিক মিয়া এভিনিউতে সমবেত হন।