কে এম খায়রুল বাশার: ত্যাগ-তিতিক্ষায় গড়া এক পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে মেয়র হিসেবে চান তৃণমূল

print news

এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া

image 2


বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে কে এম খায়রুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে একজন সৎ, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক পথচলা সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, বগুড়া পৌরসভা বা সম্ভাব্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে তারা দেখতে চান এই অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে।


রাজনৈতিক জীবনের সূচনালগ্নে তিনি সরকারি সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতির সময় থেকেই তিনি সংগঠন গড়ে তোলা, কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নিজের নেতৃত্বের স্বাক্ষর রাখেন। সহপাঠী ও সমসাময়িক নেতাদের মতে, তার দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে ছাত্রসমাজে আলাদা অবস্থান তৈরি করে দেয়।
পরবর্তীতে তিনি বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংগঠনকে গতিশীল করা, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে থেকে তিনি দলকে সুসংগঠিত রাখা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন।


দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলীয় আদর্শ রক্ষায় অটল অবস্থান বজায় রেখেছেন। তার ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, সংকটের সময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
কে এম খায়রুল বাশার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–এর রাজনৈতিক দর্শন ও দিকনির্দেশনাকে তিনি অনুসরণ করেন বলে জানান। দলীয় আদর্শ ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি তার অঙ্গীকার তাকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে।


তৃণমূলের দাবি, বগুড়া পৌরসভা বা সম্ভাব্য সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সমস্যা সমাধানে একজন অভিজ্ঞ ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে তিনি সক্ষম হবেন বলে তাদের বিশ্বাস। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন মাঠে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা তাকে সাধারণ মানুষের চাহিদা ও সমস্যার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।


স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তিনি নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। তার সহজ-সরল আচরণ ও কর্মীবান্ধব মনোভাব তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তৃণমূলের ভাষ্য, “দল ও মানুষের জন্য যিনি কঠিন সময়েও পাশে থেকেছেন, তাকেই আমরা নগর উন্নয়নের দায়িত্বে দেখতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সফল হতে হলে সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রশাসনিক সমন্বয় ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রয়োজন। জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কে এম খায়রুল বাশারকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।


সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাকে ঘিরে আলোচনা ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সুযোগ পেলে তিনি বগুড়াকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও উন্নয়নমুখী নগরীতে রূপান্তর করতে কাজ করবেন। তাদের বিশ্বাস, তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি বগুড়ার নাগরিক সেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবেন।
সর্বোপরি, দীর্ঘ সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলীয় আদর্শে অবিচল থাকার স্বীকৃতি হিসেবেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা কে এম খায়রুল বাশারকে মেয়র পদে দেখতে চান। এখন দলীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ পথচলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *