
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা গফরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম (প্রত্যাশা-২) প্রকল্পের উদ্যোগে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক এক ইউনিয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই কর্মশালায় নিরাপদ অভিবাসনের গুরুত্ব, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
গফরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব মো: মাহমুদুল হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গৌরব চক্রবর্তী শুভ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জনাব মোঃ নাজমুল হক মন্ডল।
মূল বক্তব্য ও প্রকল্পের লক্ষ্য: কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ ও প্রকল্পের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের গফরগাঁও উপজেলা প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পলাশ আহাম্মেদ। তিনি জানান, প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং টেকসই পুনরেকত্রীকরণ। তিনি ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অভিবাসীদের জন্য জরুরি সেবা এবং বিদেশ ফেরতদের মনোসামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এছাড়া জেন্ডার সেনসিটিভিটি ও সমাজে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
সফলতার গল্প: কর্মশালায় ব্র্যাকের সহায়তায় ঘুরে দাঁড়ানো দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার জীবনকাহিনী উপস্থিত সকলকে আপ্লুত করে। সৌদি আরব ফেরত মোঃ নাজমুল হক জানান, বিদেশ থেকে প্রতারিত হয়ে রিক্তহস্তে ফেরার পর ব্র্যাক তাকে একটি গাভী ও বাছুর প্রদান করে। বর্তমানে তিনি সেই সম্পদ কাজে লাগিয়ে অটো কিনে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং নিজের বাড়ি নির্মাণ করছেন। অপর বেনিফিশিয়ারি আরিফ ফকির জানান, অসুস্থ অবস্থায় বিদেশ থেকে ফিরে ঋণের চাপে যখন দিনমজুরি করছিলেন, তখন ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ ও গবাদিপশু সহায়তা তাকে নতুন জীবন দিয়েছে। এখন গরুর দুধ বিক্রির টাকায় তার মেয়ের পড়াশোনা চলছে।
বক্তাদের অভিমত: গফরগাঁও উপজেলা প্রবাস বন্ধু ফোরামের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ সুরুজ মিয়া বলেন, “আমরা চাই না সমুদ্রপথে আর কোনো নৌকা ডুবে মায়ের বুক খালি হোক। সুনামগঞ্জের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন গফরগাঁওয়ে না ঘটে, সেজন্য আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।”
প্রবাস বন্ধু ফোরামের সদস্য সাংবাদিক হানিফ খান বলেন, দক্ষ রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। এনআরবিসি ব্যাংকের অফিসার ইনচার্জ জনাব মতিউর রহমান লেনদেনের ক্ষেত্রে দালালের পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ও সঠিক ডকুমেন্ট ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গৌরব চক্রবর্তী শুভ বলেন, পাসপোর্টের জন্য নাম বা বয়স সংশোধনের চেয়ে দক্ষ হয়ে বিদেশে যাওয়া বেশি জরুরি। তিনি ব্র্যাকের বেনিফিশিয়ারিদের সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্য: সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ও প্রশাসক জনাব মো: মাহমুদুল হাসান ব্র্যাকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “বিদেশে যাওয়ার আগে তথ্য যাচাইয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসী বুথ এবং জেলা পর্যায়ে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা প্রয়োজন।” তিনি গফরগাঁও ইউনিয়নের প্রতারিত বিদেশ ফেরতদের জন্য আরও বেশি অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান এবং প্রকল্পের সফলতায় সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গফরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা মন্ডল, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনচারুল হক, সাংবাদিক আলমগীর এবং ব্র্যাকের স্বেচ্ছাসেবক জনি আক্তারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।