
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন লংগাইর ইউনিয়নের কাজা গ্রামে ৫ম শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখনো মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল (শনিবার) বিকেলে কাজা গ্রামের সোহাগ মিয়ার ৫ম শ্রেণির শিশু কন্যা বাড়ির পাশে খেলা করছিল। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় প্রতিবেশী নয়ন মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র রাহাত (১৫) শিশুটিকে কৌশলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত রাহাত আত্মগোপনে চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর পাগলা থানা পুলিশ অভিযুক্তের বাবা নয়ন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেলেও রহস্যজনকভাবে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী দরিদ্র পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, যার ফলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে সাহস পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে পাগলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজারুল ইসলাম জানান, “এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা ৯ অনুযায়ী শিশু ধর্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এখানে কোনো আপস বা সম্মতির অবকাশ নেই।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রভাবশালীদের চাপের মুখে অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।