বারনই নদী সংরক্ষণে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

print news

তন্ময় দেবনাথ বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান রাজশাহী

image 7

রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি সূর্যপুর জেলেপাড়া সংলগ্ন বারনই নদীর তীরে নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলার গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মোসা. রহিমা খাতুন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারনই লোকসাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি জুয়েল রায়হান এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সাধারন সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর গ্রিন কােয়ালিশনের সদস্য সচিব পলি রাণী।


এছাড়া সভায় জেলে সম্প্রদায়ের শ্রী বিজেন হালদার, শ্রী গোবিন্দ হালদার, শ্রীমতি কাজলী, জয়া হালদার, রাধারানী, আতিক, সাফিসহ স্থানীয় কৃষক, তরুণ ও প্রবীণরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বারনই নদীর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, রাজশাহী নগরের অপরিকল্পিত কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে নদী, বিল ও জলাধারগুলো মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। এর ফলে নদীর পানি কালো ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে, মাছের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, দূষিত পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। এতে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং খাদ্য উৎপাদনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। একই সঙ্গে দূষণের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।


জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, একসময় বারনই নদীতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে মাছের পরিমাণ অত্যন্ত কমে গেছে এবং যে সামান্য মাছ পাওয়া যায়, তা অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যোপযোগী নয়। এছাড়া নদীর পানিতে হাঁস পালনসহ পূর্বের অনেক প্রথাগত জীবিকা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।
সভায় নদী দখল ও দূষণ বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, নদীকে কেবল খাল হিসেবে বিবেচনা না করে এর প্রকৃত মর্যাদা উপলব্ধি করতে হবে এবং নদীকে খাল না বলে নদীই বলতে হবে। পাশাপাশি নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং স্থানীয়ভাবে নদী রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।


তারা আরও বলেন, নদী সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নদী ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে মোসা. রহিমা খাতুন বলেন, নগরের বর্জ্য বিভিন্ন বিল ও জলাধার হয়ে নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, যা জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং সামগ্রিক পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি নদী ও জলাশয় রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *