গফরগাঁওয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বাড়িতে হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

print news
1000024242

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রাওনা ইউনিয়ন পাঁচুয়া গ্রামে দাবীকৃত ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে এক যুবকের বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁরই প্রতিবেশী ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীর মাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ শামছুল হক (৩০) বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় জাকিরুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাছুঁয়া গ্রামের বাসিন্দা আঃ মান্নানের ছেলে শামছুল হকের প্রতিবেশী ভাতিজা জাকিরুল ইসলাম। বিবাদী জাকিরুল মাদকাসক্ত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গত কিছুদিন যাবৎ জাকিরুল ইসলাম বাদী শামছুল হকের নিকট ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল এবং চাঁদা না দিলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল।

দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় গত ৫ মে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বিবাদী জাকিরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন সহযোগীকে সাথে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ শামছুল হকের বসতবাড়িতে চড়াও হয়। বাড়িতে ঢুকে চাঁদার টাকার জন্য শামছুল হককে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিবাদীরা বসত ঘরের টিনের চাল এবং দরজা-জানালা ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।

ভাঙচুরের সময় শামছুল হকের মা শিরিনা খাতুনসহ বাড়ির মহিলারা বাধা দিতে গেলে বিবাদী জাকিরুল ইসলাম তাঁর মায়ের মাথা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তবে তিনি দ্রুত সরে যাওয়ায় ইটের আঘাত থেকে রক্ষা পান। ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় বিবাদীরা হুমকি দিয়ে যায় যে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিলে পরিবারের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। পরে শামছুল হক ও তাঁর পিতা খবর পেয়ে বাড়ি আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী শামছুল হক জানান, চাঁদা না দেওয়ায় বিবাদীদের ধারাবাহিক হুমকি ও এই বর্বরোচিত হামলার কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবারের লোকজন বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

গফরগাঁও থানা পুলিশ জানায়, চাঁদা দাবি ও বাড়িতে হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *