গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর বসতঘর ও আসবাবপত্র লুটে নিল স্বজনরা, জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় স্ত্রী

print news
1000018878

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক লিবিয়া প্রবাসীর বসতঘর ভেঙে আসবাবপত্রসহ সবকিছু বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই আপন বোন ও ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে। উপজেলার ধোপাঘাট পশ্চিম পাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ সুমা আক্তার (২৮) বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ধোপাঘাট পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ও লিবিয়া প্রবাসী জহির আল রায়হানের সাথে তাঁর বোন ও ভগ্নিপতিদের দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। জহির বিদেশে যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী সুমা আক্তার সন্তানদের নিয়ে জীবিকার তাগিদে শ্রীপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন। বাড়িতে তালা দিয়ে তিনি মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতেন।

ভুক্তভোগী সুমা আক্তার জানান, গত ২২ এপ্রিল সকালে বিবাদী রফিকুল ইসলাম, আমেনা খাতুন, পারভীন আক্তার ও নার্গিস আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বেআইনিভাবে ওই প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা ৩ কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেড ঘরটি ভেঙে ফেলে এবং ঘরে থাকা প্রায় ৩ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র জনৈক ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করে দেয়। গত ২৪ এপ্রিল সুমা আক্তার খবর পেয়ে বাড়ি এসে দেখেন তাঁর সাজানো ঘর ও আসবাবপত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই।

সুমা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, বাড়ি ভেঙে ফেলার কারণ জানতে চাইলে বিবাদী রফিকুল ইসলাম তাঁকে মারধর করতে উদ্যত হয় এবং হুমকি দিয়ে বলে, “ঘর তো বিক্রি করেছি, এবার জায়গাও বিক্রি করে দেব।” বর্তমানে বিবাদীদের খুনের হুমকিতে সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন ওই গৃহবধূ। এই ঘটনায় প্রায় ৮ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী ও প্রবাসীর বোন আমেনা খাতুন ভিন্ন দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমার ভাই বিদেশ যাওয়ার সময় আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার করে তাঁকে টাকা এনে দিয়েছিলাম। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর থেকে তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। যাদের কাছ থেকে টাকা এনেছি, তারা এখন পাওনা টাকার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে ভাইয়ের ঘর বিক্রি করে ঋণের কিছু টাকা পরিশোধ করেছি। ভাইয়ের সাথে লেনদেন হওয়ায় আমাদের কাছে কোনো লিখিত দলিল নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *