গফরগাঁওয়ে রাওনা ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, বিবাদীর দাবি আদালতের রায়ে উচ্ছেদ

print news
1000022773

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূর বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই গোষ্ঠীর লোকজনের বিরুদ্ধে। হামলায় ঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার, গাভী ও ছাগল লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ সিপন আক্তার (৪৫) বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে দ্বিতীয় পক্ষের দাবি, তারা আদালতের রায় মতেই জায়গা খালি করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাছুঁয়া গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী সিপন আক্তারের সাথে তাঁরই গোষ্ঠীর প্রতিবেশী মোঃ জিয়া, মোঃ আজিজুল হক, তারেক মিয়া, ঝুমা আক্তার ও আছমা খাতুনসহ অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল।

সিপন আক্তারের দাবি, গত ৭ মে বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ বেআইনিভাবে তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ২টি চৌচালা টিনের ঘর এবং ১টি ছনের রান্নাঘর কুপিয়ে ও পিটিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘরে ঢুকে তারা টিভি, ফ্রিজ, সুকেচ, খাট ও প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিলসহ প্রায় ৪ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়ির উঠানের ১০-১২টি ফলদ গাছ কেটে ফেলা হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ভাঙচুরের একপর্যায়ে ২নং বিবাদী আজিজুল হক সুকেচে থাকা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দেড় ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং আঙিনায় বাঁধা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ১টি গাভী-বাছুর ও ২০ হাজার টাকার ১টি ছাগল লুটপাট করে নিয়ে যায়। হামলা ও ভাঙচুরের পুরো ঘটনাটি ভুক্তভোগীর মেয়ে তাঁর মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন।

এদিকে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিবাদী আজিজুল হক বলেন, *”আমি সিরাজের কাছ থেকে সাব-কবলা দলিলমূলে এই জমি ক্রয় করেছি। কিন্তু আমার ক্রয়কৃত জমি তারা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। এই নিয়ে এলাকায় অনেকবার সালিশ-বৈঠক করলেও তারা আমার জমি খালি করে দেয়নি। বাধ্য হয়ে জায়গা খালি করার জন্য আমি আদালতে মামলা করি এবং মামলায় আদালত থেকে আমার পক্ষে রায় আসে। আদালতের নির্দেশ ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ীই আমি আমার জায়গা খালি করেছি। এখানে কোনো লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। এই বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সবাই অবগত আছেন।”

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে গফরগাঁও থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগটি প্রাপ্তির পর খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এবং আদালতের কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *