রামদা দিয়ে কুপিয়ে হামলা, বগুড়ার শিকারপুর মোড়ে একজন গুরুতর আহত

print news

এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়া:

43231

বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের শিকারপুর মোড়ে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ৪ মে ২০২৬, সোমবার সকাল প্রায় ৮:০০ ঘটিকার সময়।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শিকারপুর মধ্যপাড়া এলাকার শাহিন (পিতা: সিফাত) এবং প্রতিপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সকালে শিকারপুর মোড়ে অবস্থানকালে শাহিনের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে প্রথমে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং পরে ধারালো রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
ঘটনার সময় আশপাশের লোকজন চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং কেউ তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিতে সাহস পাননি। হামলার দৃশ্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত। অভিযুক্তরা হলেন—
মোঃ রানা পাইকার (৩৫),
মোঃ সাজু পাইকার (৪৫),
মোঃ সেতু পাইকার (৩৪) — (তিনজনই মোঃ রফিকুল পাইকারের পুত্র);
মোঃ রাজু পাইকার (৪০), পিতা: মৃত বাদশা;
মোঃ সাদিক পাইকার (৩০), পিতা: মোঃ নুর ইসলাম;
এবং মোঃ আবু বক্কর, পিতা: মৃত ময়েন—সকলের বাড়ি শিকারপুর মধ্যপাড়া, এরুলিয়া ইউনিয়ন।
হামলার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত শাহিনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা জানান, প্রতিপক্ষরা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল এবং বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *